শরতের ছোঁয়ায় যখন প্রকৃতি মেতে ওঠে উৎসবের প্রস্তুতিতে, তখনই এক আশ্চর্য মুহূর্ত সৃষ্টি হয় বীরভূমের লাল মাটির বুকে। ৩রা অক্টোবর ২০২৪, “উৎসবে আনন্দদান”—জাতি ধর্ম নির্বিশেষে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পরা পরিবারের জেলার ১৫৩০ জন শিশুকে উৎসবের উপহার প্রদান
এবছর আমরা নুতন জামা উপহার দিতে সমর্থ হয়েছি জেলার ১৯ টি ব্লকের ১৫৩০ জন শিশুকে ।৩রা অক্টোবর ২০২৪, বেলা ১ টায় সিউড়ী রবীন্দ্রসদন মঞ্চে মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল ২০৩ জন শিশু। বাকি শিশুদের বাড়ি বাড়ি পৌছে দিচ্ছেন ৭৮জন এলাকা ভিত্তিক প্রতিনিধিরা। এই কর্মসূচিতে ১৫৩০টি শিশুর মুখে ফুটে উঠেছে নিখাদ হাসি, ভালোবাসার মলাটে মোড়ানো এক একটি উপহার হয়ে। এই উৎসব শুধু উপহারের বন্টন নয়, এটি এক আবেগের বহিঃপ্রকাশ—যেখানে কাশফুলের কোমলতা আর শিউলির সুবাস মিশে গেছে হাজার হাজার হৃদয়ের ভালোবাসায়। যাঁদের কাছে খোলা আকাশই ঘর, তাঁদেরই কাছে পৌঁছে গেছে নতুন পোশাকের গন্ধে ভেজা হাসিমুখ, স্পর্শ করেছে উদার মানুষের সহানুভূতির স্পন্দন।
বীরভূম লাল মাটির দেশ-এর এই উদ্যোগে, রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের শুভ সূচনা। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা এবং সম্মানিত অতিথিবর্গ:
– শ্রীমতী ইন্দ্রানী রায় (জেলা শাসক সহধর্মিণী)
– শ্রী বিধান রায় (জেলা শাসক ও জেলা সমাহর্তা)
– শ্রী বিশ্বজিৎ মোদক (অতিরিক্ত জেলা শাসক, উন্নয়ন)
– শ্রী সুপ্রতিক সিনহা (মহকুমা শাসক, সিউড়ী সদর)
– শ্রী অনির্বান মন্ডল (জেলা আধিকারিক, মিড ডে মিল, নির্বাচনী ও কন্যাশ্রী প্রকল্প)
– শ্রী পার্থ দাসগুপ্ত (সমাজকল্যাণ আধিকারিক)
– শ্রী নিরুপম সিনহা (জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক)
– পদ্মশ্রী প্রাপ্ত লোকশিল্পী শ্রী রতন কাহার
– বিশিষ্ট পরিবেশবন্ধু শ্রী দীনবন্ধু বিশ্বাস
– বিশ্বজয়ী পরিবেশ সাইকেল আরোহী শ্রী উজ্জ্বল পাল, সহ আরও অনেকে, যাঁদের উপস্থিতিই অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও গর্বিত ও গৌরবান্বিত
ছাত্রবন্ধু ২০২৪ — শিক্ষা আর স্বপ্নের পাশে এক উষ্ণ হাত
এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল “ছাত্রবন্ধু ২০২৪”। শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে, এই উদ্যোগে জেলার ১৭ জন মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নেওয়া হয়েছে। তাঁরা শুধু সহানুভূতি নয়, পেয়েছেন প্রেরণার শক্তি—আগামীর পথচলা আরও দৃঢ় করতে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশিত হয় বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী মুখোশ নৃত্য। দেবী দুর্গার মহিমায় ভরা “মহিষাসুরমর্দিনী” নৃত্য রচনায় শরতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের সত্যিকারের রূপ—সংস্কৃতি, সংহতি আর সম্মিলনের স্পন্দন।
এই আয়োজন শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি অনুভূতি। এক চিলতে ভালোবাসা, একটুকরো আশ্বাস, সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া এক মিলনের ডাক। উৎসব হোক বিভেদের উর্ধ্বে, হৃদয়ের নিচে, মানবতার শিখরে।
এ যেন আলো আর খুশির মেলবন্ধনের মিলিত প্রয়াস। এই উৎসবের মূল কান্ডারি সাধারণ মানুষ; তাঁদের সাহায্য আর ভালোবাসা ছাড়া বোধহয় বীরভূম লাল মাটির এতদূর এগিয়ে আসতে পারতো না। এই উৎসবের অংশীদার সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ সঙ্গে নিয়ে আমরা অনেকটা পথ ঠিকই এগিয়ে যাব আর উপহারে পাব অনেকটা খুশি আর আনন্দ।
মা আসতে আর কয়েকটা দিন বাকি। উৎসব হোক আপনার, আমার, সবার। উৎসব হোক এ সমাজের। বিচ্ছেদ, বিভেদ, সংকীর্ণতা ভুলে গিয়ে বীরভূম লাল মাটির দেশ যেন এত এত খুশি আর আনন্দের সাক্ষী থাকতে পারে আগামী দিনে এবং এই প্রয়াস টুকু যেন সর্বজনীন হয়ে ওঠে তার জন্য পাশে চায় আপনাকে, আপনাদের সকলকে।
“উৎসবে আনন্দদান ২০২৪ ” এর সূচনা অতিথি আহ্বান, বরণ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, উদ্বোধনী সঙ্গীত , ও অথিথিদের বক্তব্য
ছাত্রবন্ধু -মেধাবী ও আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছাত্র ছাত্রীদের পাশে থাকার বীরভূম লাল মাটির দেশের একটি কর্মসূচী।ছাত্রবন্ধু ২০২৩ সফল ভাবে রূপায়িত হলো উৎসবে আনন্দদান ২০২৪ অনুষ্ঠানের মঞ্চেই , ৩ অক্টোবর ২০২৪, সকাল ১১ টায় সিউড়ী রবীন্দ্রসদন মঞ্চে । যে কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার মেধাবী ও আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছাত্রীদের পাশে থাকলাম আমরা ।
বীরভূমের মুখোশ নৃত্য –
“উৎসবে আনন্দদান ২০২৪ ”- – জাতি ধর্ম নির্বিশেষে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পরা পরিবারের জেলার ১৫৩০ জন শিশুকে উৎসবের উপহার প্রদান
পর্ব -২ : সিউড়ী -১ ব্লক, সিউড়ী- ২ ব্লক এবং খয়রাশোল ব্লক
উৎসবে আনন্দদান ২০২৪ এ যারা আমাদের পাশে ছিলেন –
Birbhum Lal Matir Desh