Home » অন্যান্য » ফের বীরভূমের সিউড়ি আদালতের মানবিক মুখ

ফের বীরভূমের সিউড়ি আদালতের মানবিক মুখ

ফের বীরভূমের সিউড়ি আদালতের মানবিক মুখ। এবার সাক্ষ্য দিতে আসা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলো। শুক্রবার ছিল এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা। আর এদিন সিউড়ির পক্সো আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং মা। তাঁদের বাড়ি রামপুরহাট থানা এলাকায় এবং রামপুরহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ওই পরীক্ষার্থীর ছিল পরীক্ষা কেন্দ্র। সরকারী আইনজীবীর মাধ্যমে সিউড়ি আদালতের বিচারক দীপ্তেন্দ্রনাথ মিত্র জানতে পারেন সাক্ষীর পরীক্ষার কথা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিউড়ি থানার আই সি কে নির্দেশ দেন তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ওই ছাত্রীকে পৌঁছানোর জন্য। সেই মতো সিউড়ি থানা ওই ছাত্রীকে রামপুরহাটে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেয় ঠিক সময়ে। এদিকে মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে ওই ছাত্রী ও তার মায়ের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।
আদালতে সূত্রে জানা গিয়েছে ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই রামপুরহাট থানায় ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তার প্রেমিক কালু লেটের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোর করে সহবাস এবং গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিয়ে করতে অস্বীকার, এই অভিযোগ দায়ের করেন। প্রেমিকের সঙ্গে সঙ্গে তার মা, বাবা ও দিদির বিরুদ্ধে ঘটনায় মদত দেওয়ার অভিযোগ করেন। ঘটনার সময় ওই ছাত্রীর বয়স ছিল ১৪ বছর। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমিককে গ্রেফতার করে রামপুরহাট থানার পুলিশ। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। ওই ঘটনার এদিন সিউড়ি আদালতে মা ও মেয়ের সাক্ষ্য দান ছিল পক্সো আদালতে। তারা ঠিক সকাল ১০ টার মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। সরকারী আইনজীবি সৈয়দ সামদুল আলম পরীক্ষার কথা জানতে পেরে বিষয় টি বিচারক কে জানান। ১০ টা ২০ মিনিটের মধ্যে বিচারক সিউড়ি থানার পুলিশ কে ওই পরীক্ষার্থীকে রামপুরহাটের পরীক্ষা কেন্দ্রের পৌঁছানোর নির্দেশ দেন। পরীক্ষা শুরু ১২ টা থেকে কিন্তু তার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। আর হাতে ছিল মাত্র এক ঘন্টা। এই সময়ের মধ্যেই সিউড়ি থাকে রামপুরহাট প্রায় ৫০ কিমি রাস্তা ওই ছাত্রীকে নিয়ে অতিক্রম করতে হবে। পুলিশ জাতীয় সড়কে কার্যত গ্রিন করিডর করে ঠিক সময়ের মধ্যেই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়। সরকারী আইনজীবি সৈয়দ সামদুল আলম বলেন, পরীক্ষার কথা জানতে পেরে বিচারককে বলি। তখন পুলিশের মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। এদিন সারা রাজ্য জুড়ে আইনজীবিদের কর্মবিরতি চলছে। তা সত্বেও ওই ছাত্রীর কথা ভেবে বিচারককে ওই ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করি।
তথ্যঃ কৌশিক সালুই

Comments